Wednesday, August 20, 2014

পর্ব-৫ ঈসা আঃ এর অবতরন, ইমাম মাহাদী ও কাদিয়ানির 'ভ্রান্ত মতবাদ' !

যাই হোক, এইবার কাদিয়ানিদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাক-


প্রথমত তারা কোরানের সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াত ও কয়েকশ সহীহ হাদীসকে পাশ কাটিয়ে, নব্যুয়তের দ্বারা চালু আছে প্রমান করার জন্য এই আয়াতটি পেশ করে (‘উম্মতি নবি’ গ্রন্থের ৯ পৃষ্ঠা)—

(প্রথমত বলে রাখা ভাল, কাদিয়ানি ভাইয়েরা আমার রেফারেন্স গুলো আপনাদের কোরআনে ১ আয়াত পরে চেক করবেন। কেননা আপনারা কোরানের আয়াত সংখ্যা পর্যন্ত চেঞ্জ করে দিয়েছেন। মানে আমি যদি বলি ৬৯ নাম্বার আয়াত আপনারা তা ৭০ নাম্বার আয়াত ধরে নিবেন।)

কাদিয়ানিরা এই আয়াত দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা এই আয়াতের অর্থ পর্যন্ত চেঞ্জ করে দিয়েছে। অথচ এই আয়াতের সঠিক বঙ্গানুবাদ হল, (চিহ্নিত লাল অংশটুকুর)  “সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে” অথচ কাদিয়ানিরা এর অর্থ করেছে, “শামিল হবে কিংবা অন্তর্ভুক্ত হবে”নিম্নে আমি বিশ্বখ্যাত কয়েকটি অনুবাদের অনুবাদ দিলাম---

Sahih International

And whoever obeys Allah and the Messenger - those will be with the ones upon whom Allah has bestowed favor of the prophets, the steadfast affirmers of truth, the martyrs and the righteous. And excellent are those as companions.

Muhsin Khan

And whoso obeys Allah and the Messenger (Muhammad SAW), then they will be in the company of those on whom Allah has bestowed His Grace, of the Prophets, the Siddiqun (those followers of the Prophets who were first and foremost to believe in them, like Abu Bakr As-Siddiq), the martyrs, and the righteous. And how excellent these companions are!

Pickthall

Whoso obeyeth Allah and the messenger, they are with those unto whom Allah hath shown favour, of the prophets and the saints and the martyrs and the righteous. The best of company are they!

Yusuf Ali

All who obey Allah and the messenger are in the company of those on whom is the Grace of Allah,- of the prophets (who teach), the sincere (lovers of Truth), the witnesses (who testify), and the Righteous (who do good): Ah! what a beautiful fellowship!

Shakir

And whoever obeys Allah and the Messenger, these are with those upon whom Allah has bestowed favors from among the prophets and the truthful and the martyrs and the good, and a goodly company are they!

Dr. Ghali

And whoever obeys Allah and the Messenger, then those are with the ones whom Allah has favored of the Prophets, and the ones constantly sincere and the martyr-witnesses, and the righteous; and the fairest escorts those are!

সোজা কথায়, এখানে বলা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তার রাসূল সাঃ কে মানবে তারা জান্নাতে নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং সালেহদের সাথে থাকবে কিংবা সাথী হবে। কিন্তু কাদিয়ানিরা অর্থ করেছে, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে মানবে তারা নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং সালেহ হবে!!

অথচ, লাইনের শেষেই বলা আছে, “আর তারা কতইনা উত্তম সাথী”

আর এর তাফসীরে ইবনে কাসীরে এবং মা’রিফুল কোরআনে এই আয়াত নাযিলের পটভূমি দেয়া আছে-

হযরত আয়েশা রাঃ বলেন, “একদিন জনৈক সাহাবী রাসুল সাঃ এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার অন্তরে আপনার মুহাব্বত আমার নিজের জান, নিজের স্ত্রী ও নিজের সন্তান সন্ততীর চাইতেও অধিক। অনেক সময় আমি নিজের ঘরেও অস্তির হয়ে পড়ি। যতক্ষণ না আপনার খেদমতে উপস্থিত হয়ে আপনাকে দেখে নেই ততক্ষণ স্বস্তি লাভ করতে পারিনা। কাজেই আমার চিন্তা হয়, আপনি যখন এ পৃথিবী থেকে তিরোহিত হয়ে যাবেন এবং আমিও যখন মরে যাবো, তখন আমি জানি, আপনি নবী রাসূলদের সাথে জান্নাতের উচ্চ স্থানে অবস্থান করবেন, অথচ আমি জানিনা, প্রথমত আমি জান্নাতে পৌছাবো কিনা। আর যদি পৌছাইও তবে আমার মর্যাদা আপনার চাইতে বহু নীচে হবে, সেখানে আমি আপনার সান্নিধ্য হয়তো পাবোনা। তখন কেমন করে আমি সবর করব?? তাঁর কথা শোনার পর মোহাম্মদ সাঃ কোন উত্তর দিলেন না। ইতোমধ্যে এই আয়াত নাযিল হয়ে জানিয়ে দিল, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে তাঁরা বেহেশতে নবী, রাসূল, সিদ্দিক ও সালেহ দের সাথে দেখা করতে পারবে এবং তাদের সাথী হবে আর আয়াতের শেষ অংশ, “আর কতই না উত্তম সাথী”

এই ভাবেই কাদিয়ানিরা কোরআনের অর্থ কে বিকৃত করছে!! 

‘উম্মতি নবী’ গ্রন্থে দাবী করা হয়েছে, যে কেউই ‘সৎ কাজের’ দ্বারা ‘নবী পর্যায়’ পৌছাতে পারবে। এছাড়া কাদিয়ানিদের অন্যান্য গ্রন্থও এই ধারণাটিতে জোর দিচ্ছে। অথচ, নবী কিংবা রাসূল ‘অর্জনের’ বিষয় নয়, বরং ‘মনোনয়নের’ বিষয়।

আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ দূত নির্বাচন করেন ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য হতে...” (সূরা হাজ্জ-৭৫)

আবারো বলি, নবি ও রাসূল ‘অর্জনের’ বিষয় নয় । এটা পূর্বেই ‘মনোনীত’ বিষয়—

“(স্মরণ কর) যখন আল্লাহ নবীদের প্রতিজ্ঞা নিলেন যে, তোমাদেরকে আমি যে কিতাব ও হিকমত দেব, তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক রুপে রাসূল আসবে, তখন তাঁকে বিশ্বাস ও সাহায্য করবে। বললেন, তোমরা স্বীকার করলে? আর এ ব্যাপারে আমার ওয়াদা কি গ্রহণ করলে? তাঁরা বলল, স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, সাক্ষী থাক তোমাদের সঙ্গে আমিও সাক্ষী রইলাম” (সূরা আলে ইমরান-৮১)

বলা হয়েছে, “আল্লাহ নবীদের প্রতিজ্ঞা নিলেন”, এখানে সব নবী রাসূল ই ছিলেন, কোন ‘উম্মতি নবী’ ছিলেন না। কারণ নবুয়্যাত ‘অর্জনের’ বিষয় নয়, এটা পূর্ব থেকেই মনোনীত।

আরো কিছু সোজা কথা.........যারা এখনো সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াত নিয়ে সন্দেহে আছেন, তাদের নিকট কিছু কথা.........

রাসূল সাঃ বলেছেন, “সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গী হবে” (তিরমিযি, দারিমি, দারাকুতনী, মিশকাত)

এই হাদীসও উক্ত আয়াতের মতো বলছে, সত্যবাদী ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দিকদের সঙ্গি হবে, ব্যবসায়ী নিজেই নবী হয়ে যাবেনা।

কোরানের অর্থ বিকৃতকারী কাদিয়ানীরা বলে, এই আয়াতে আরবী “মা’আ” শব্দটি “মিন” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কাদিয়ানিদের একটা স্বভাব হল, তারা আরবি ব্যাকরণের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাড় করায়। এতে করে সাধারন মানুষকে বোকা বানানো অতি সহজ। কারন সাধারণ মানুষ অবশ্যই আরবী ব্যাকরণে পারদর্শী নয়। এতে তারা মানুষকে সহজেই বিভ্রান্ত করতে পারে। অথচ কোন তাফসীরকারীই ‘মা’আ’ শব্দটিকে ‘মিন’ অর্থে ব্যবহার করেননি। ইবনে কাসীর এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাকে ওদের সাথী বানিয়ে দেয়’।

আর কাদিয়ানিরা নিম্নের আয়াত সম্পর্কে কি বলবে??

আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”। উল্লেখ্য এই আয়াতেও ‘মা’আ’ ( مَعَ ) শব্দটি ব্যবহার হচ্ছে। এখন এর অর্থ কি হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের অনর্ভুক্ত???

আরেকটি হাস্যকর ব্যাখ্যা শুনুন, এদের যে কোরআন বোঝার ক্ষমতাও আল্লাহ দেননি এটাই তার প্রমাণ। কাদিয়ানিদের ‘উম্মতি নবী’ গ্রন্থের ১১ পৃষ্ঠায় দেয়া আছে.........


প্রথমত একটা কথা বলি, এই আয়াত ‘রাসূল’ সম্পর্কিত। এখন কাদিয়ানি কি রাসূল?? এভাবেই তারা মানুষকে ধোঁকা দেয়। তারা প্রথমে বলে, মির্জা গোলাম আহমদ হলেন ‘প্রতিশ্রুত মাহাদী’ , পরে বলে তিনি ‘নবী’ এবং এখন বলছে মির্জা গোলাম ‘রাসূল’ এবং এই আয়াত তার সুসংবাদ দিচ্ছে। এছাড়া আমি আগেই বলেছি, মির্জা গোলাম নিজেকে সকল নবী রাসূলদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ বলেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে,কোন হাদীসে কী আছে, ইমাম মাহাদী এসে নিজেকে, নবী, রাসূল দাবী করবে?? কিংবা ইমাম মাহাদী এসে কোরানের ব্যখ্যা করতে যাবে?? কিংবা নিজেকে ইমাম মাহাদী প্রমানের জন্য ‘উঠে-পড়ে’ লাগবে??

দ্বিতীয়ত, আয়াতটি  আবার বলি, “আল্লাহ মুমিনদের প্রতি করুণা করেছেন, তিনি তাদের কাছে তাদের মধ্য হতে রাসূল পাঠিয়েছেন, তিনি তাদেরকে আয়াত শুনান, পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত, যদিও ইতিপূর্বে তারা প্রকাশ্য গোমরাহীতে ছিল” (সূরা আলে ইমরান-১৬৪)

লক্ষ্য করুন, আয়াতটি নাযিল হয়েছে ‘অতীত কালের ক্রিয়ায়’ মানে, ‘পাঠিয়েছেন’ কিংবা ‘করুণা করেছেন’ কিংবা ‘পরিশুদ্ধ করেন’ কিংবা ‘গোমরাহীতে ছিল’। এখানে বলাই হয়েছে, “তিনি তাদের কাছে তাদের মধ্য হতে রাসূল পাঠিয়েছেন”, মানে আরবদের মধ্য থেকে, কিংবা কুরাইশদের মধ্য থেকে, কিংবা মানব জাতীর মধ্য থেকে রাসূল পাঠিয়েছেন। এটা মোহাম্মদ সাঃ যিনি ‘ইতোমধ্যেই’ চলে এসেছেন তাদের মধ্যে, “যারা প্রকাশ্য গোমরাহীতে ছিল”। এখানে বলা হয়নি, আল্লাহ মুমিনদের মধ্যে করূনা করবেন কিংবা তাদের কাছে রাসূল পাঠাবেন কিংবা যিনি তাদেরকে আয়াত শুনাবেন কিংবা পরিশুদ্ধ করবেন কিংবা কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দিবেন এবং তাদের মধ্যে যারা প্রকাশ্য গোমরাহীতে থাকবে!! অথচ এই লাইনকে এরা কীভাবে চালিয়ে দিচ্ছে, ‘ভবিষ্যত রাসূল’ আবির্ভাবের নিদর্শক হিসেবে!!

তাই আবারও সেই ভ্রান্ত পথিকদের আহ্বান, আর কি বুঝতে বাকী আছে, ব্রিটিশদের দালাল ‘মির্জা গোলাম আহমদের’ উদ্দেশ্য কি ছিল??

যাই হোক, আমার ধারনা ‘উম্মতি নবী’ বইটি যে লিখেছে সে সম্পূর্ণই মাতাল, তারও মির্জা সাহেবের মতো আফিম খাওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে। এই বই নিয়ে পরে আরো আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

এরপরো কি সন্দেহ আছে যে মির্জা গোলাম ‘ইমাম মাহাদী’ তো দূরের কথা সে কোন ‘মুমিন’ ও নয়??

তারপরো সহীহ হাদীসের আলোকে মির্জা গোলাম এবং ইমাম মাহাদীর সাদৃশ্য কিংবা বৈসাদৃশ্য খুজে দেখি।

মোহাম্মদ সাঃ বলেছেন, মাহাদী আমার বংশধরদের মধ্যে থেকে হবেন” (আবু দাঊদ)। এছাড়া অন্য হাদীসে এসেছে, “ইমাম মাহাদী আমার কন্যা ফাতিমা এর বংশধর থেকে উত্থিত হবেন”(ইবনে মাজাহ)। অন্য হাদীসে এসেছে, “ইমাম মাহাদীর নাম আমার নামে হবে এবং ইমাম মাহাদীর পিতার নাম আমার পিতার নামের মতো হবে” (আবু দাঊদ)

মির্জা সাহেব মোহাম্মদ সাঃ কিংবা ফাতেমা রাঃ এর বংশধর ছিলেন না। মির্জা গোলামের নিজের ভাষায়, “আমার দাদার নাম আতা মুহাম্মদ, আমার গোত্র মুঘল বরসাল। সংরক্ষিত দলিল পত্র থেকে বুঝা যায় আমার পূর্বপুরুষেরা সমরকন্দ থেকে আগমন করেছেন” (মির্জার রচিত ‘কিতাবুল বারিয়া’ গ্রন্থ থেকে)।

ইতিহাসের সম্পর্কে যার নূন্যতম ধারনা আছে, সেও জানে যে ‘মোঘল’ তুর্কি বংশের। তার মানে মির্জা কোন ভাবেই মোহাম্মদ সা; এর বংশধর নয়। আর মির্জার বাবার নাম ‘গোলাম মর্তুজা’, অথচ মাহাদীর বাবার নাম হবে আব্দুল্লাহ যেই রকম মোহাম্মদ সা; এর বাবার নাম।

ইমাম মাহাদী ইচ্ছার বিরুদ্ধে পরিচিতি লাভ করবেন......

“মদিনা থেকে জনৈক ব্যক্তি মক্কায় গমন করবে। মক্কার একদল লোক তাঁকে তার জায়গা থেকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিয়ে আসবে এবং হাজরে আসওয়াদের সামনে মাকামে ইবরাহীমের কাছে তাঁর আনুগত্যের শপথ নেবে” (সূনানে আবু দাঊদ)

মির্জা গোলাম সাহবে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পরিচিতি লাভ করেন নি বরং তিনি ঘোষনা দিয়েছে তিনি ইমাম মাহাদী, এমনকি লোকজনে তার কাছে ‘হাজরে আসওয়াদের সামনে মাকামে ইবরাহীমের কাছে’ শপথ নেবে কোত্থেকে?? মির্জা সাহেব তার জীবদ্ধশায় কখনো পবিত্র ভূমি মক্কা কিংবা মদীনায় যাওয়ার সু-ভাগ্য লাভ করেননি।

ইমাম মাহাদীর আগমনের স্থান......

মোহাম্মদ সাঃ বলেছেন, “তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলীফার পুত্র কেউ তা দখল করতে পারবেনা। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকাধারী একদল সৈনিক আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকান্ড চালাবে। হাদীসের বর্ননাকারী বলেন, এরপর নবী সাঃ এমন কিছু বিষয়ের কথা বর্ণনা করলেন যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বাইয়াত করবে যদিও বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে ঊপস্থিত হতে হয়। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলীফা মাহাদী” (ইবনে মাজা- কিতাবুল ফিতান, নাসিরুদ্দিন আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, তবে ‘আল্লাহর খলীফা মাহাদী’ অংশ ব্যতীত)

ইবনে কাসীর বলেন, উল্লেখিত হাদীসে যে ‘ধন-ভান্ডার’ এর কথা বলা হয়েছে, তা হলো কাবা ঘরের ধন ভান্ডার।

ইমাম মাহাদী আবির্ভুত হবে আরবে, মদীনা মুনাওয়ারা এর পূর্বে এবং তিনি মক্কা, মদিনায় আসবেন। আর মির্জা সাহেব ‘কাবাঘর’ বিজয় তো দূরের কথা জীবনে ‘হজ্জ’ পর্যন্ত করতে মক্কা, মদিনা যাননি।

“মাহাদী আসবে আমার বংশধর হতে। তার কপাল হবে উজ্জ্বল এবং নাক হবে উঁচু। পৃথিবী হতে জুলুম নির্যাতন দূর করে, ন্যায় ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। সাত বছর পর্যন্ত তিনি রাজত্ব করবেন” (আবু দাঊদ-কিতাবুল মাহাদী)

মির্জা সাহেব আরবের রাজত্ব তো দূরের কথা বরং আরব দেশে যাওয়া তার নিষিদ্ধ ছিল। মির্জা ভয়ে হজ্জ পর্যন্ত করেনি। আর ‘সাত’ বছর রাজত্ব!! তার নিজের দেশ ভারত তখন ছিল ব্রিটিশদের শাসনে। আর মির্জা সাহেব ব্রিটিশদের অধীনে চাকরি করেছে। আর ‘ন্যায়-ইনসাফ’ কীভাবে কায়েম তো দূরে থাক, বরং মির্জা সাহেব্র জীবদ্দশার (১৮৩৯-১৯০৮) পুরো সময় উপমহাদেশ ব্রিটিশদের ‘কলোনি’ হিসেবে ছিল এবং ছিল সীমাহীন নির্যাতন। “ইংরেজদের ফাঁসির কাষ্ঠে প্রতিদিন ৮০ জন করে আলেমকে ঝুলানো হতো” (ইংরেজ ঐতিহাসিক টমসন এর লেখা থেকে)।

তবে এই ফাঁসির কাষ্ঠ মির্জা গোলামের গলায় লাগানো হয়নি, কারণ সে আলেম ছিলনা, সে ছিল ব্রিটিশদের দালাল

রানী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে তার ভাষায়, "হে পূণ্যময়ী ভারত সম্রাজ্ঞী মহারাণী ভিক্টোরিয়া! তোমার মহত্ব ও সুখ্যাতি তোমার মোবারক হোক। এদেশের ওপর খোদার দৃষ্টি রয়েছে। যে প্রজার ওপর তোমার মতা বিরাজমান তাদের ওপর খোদার রহমতের হাত রয়েছে। তোমার পবিত্র নিয়তের অনুপ্রেরণায় খোদা আমাকে পাঠিয়েছেন। যাতে পরহেজগারী, সৎচরিত্র ও শান্তির পথ দুনিয়াতে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি” (মির্জার লিখিত ‘সেতারায়ে কায়সারাহ’ গ্রন্থ থেকে)

জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, “ঈসা আঃ যখন অবতরণ করবেন তখন মুসলমানদের আমির তাঁকে বলবেন। আসুন আমাদের নামাজের ইমামতি করুন। ঈসা আঃ বলবেন, বরং তোমাদের আমীর তোমাদের মধ্যে হতেই। এই উম্মতের সম্মানের কারণেই তিনি এই মন্তব্য করবেন” (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন।)

‘আল মানারুল মুনীফ’ গ্রন্থেও এই হাদীসটি বর্ণিত আছে এবং শেষে বর্ধিত অংশটুকু হল, “যেই আমীরের পিছনে মুসলমানগণ নামায পড়বেন তিনি হলেন মাহাদী’ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেছেন, হাদীসের সনদ ভাল)

এই হাদীসে স্পষ্ট ঈসা ইবনে মরিয়ম আঃ এবং ইমাম মাহাদী এক ব্যক্তি নয়। আর অন্যান্য হাদীসে উল্লেখ আছে ঈসা আঃ এর আবির্ভাব হবে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করলে (পরবর্তী পোস্টে এই সংক্রান্ত হাদীস দেয়া আছে) ।

আর এখনো পর্যন্ত দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করেনি এবং ঈসা আঃ এরও আবির্ভাব হয়নি। মির্জা অবশ্য এখানে সুন্দর ভাবে ‘অপ ব্যাখ্যা’ করেছে, এবিষয় নিয়ে পরে আলোচনা করেছি।

আমাকে কিছুদিন আগে এক ভাই বলল, ভাই ইমাম মাহাদী কখন আসবে যেহেতু ইমাম মাহাদীর কাছে বায়’আত করতে বলা হয়েছে? আমি তাকে বলব, কাদিয়ানি অন্তত ইমাম মাহাদী নয়। কারন উপরের ‘নির্দেশক’ গুলো ইমাম মাহাদীর পরিচায়ক, সহীহ হাদীসে এর চেয়ে খুব বেশী কিছু নাই। আর, মনে রাখবেন, ইমাম মাহাদী নিজেকে মাহাদী বলে প্রচার করবেনা। কিংবা তার সমর্থকেরা ফেসবুকে, ওয়েভসাইটে ইমাম মাহাদীর প্রচারণা চালাবে না। তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আত্মপ্রকাশ করবেন।

এরপরো কি বুঝার বাকী আছে?? একথা চিন্তা করতেও কষ্ট হয়, ইমাম মাহাদী ব্রিটিশদের (কাফেরদের) সামনে নম নম করবেন কিংবা নিজেকে মাসীলে ঈসা বলে ঘোষনা দিবেন। এবং মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করবেন যে আমিই ইমাম মাহাদী কিংবা তিনি নিজেকে নবী দাবী করবেন বরং নবী, রাসূলের চেয়ে বেশী কিছু কিংবা ইমাম মাহাদী এসে কুরআনের (অপ) ব্যখ্যা করতে যাবেন কিংবা তার মৃত্যু হবে কলেরায় কিংবা টয়লেটে!!

আহমদিয়া বাংলা ওয়েভসাইট কিংবা কাদিয়ানিদের বিভিন্ন বই পুস্তকে কাদিয়ানির বিভিন্ন ভবিষ্যত বানী দেয়া আছে যেগুলো নাকী সত্য হয়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, হাদীসের কোথাও কি বল আছে, ইমাম মাহাদী এসে ‘ভবিষ্যত বাণী’ করবেন?? এছাড়া, মির্জা গোলাম এর বেশীরভাগ ভবিষ্যত বানিতেই মিথ্যাচার করা হয়েছে, আর তার অনেক ভবিষ্যত বানী সত্য হয়নি বরং একটি ভবিষ্যত বানীও সত্য হয়েছে আমি পাইনি, যাই হোক এই বিষয়ে পরে ইনশাআল্লাহ একটি পোস্ট দিব, যেখানে মির্জার যেসব ভবিষ্যত বানী সত্য হয়নি তার বর্ণনা থাকবে।

পর্ব-৪ ঈসা আঃ এর অবতরণ, ইমাম মাহাদী এবং কাদিয়ানির 'ভ্রান্ত মতবাদ' !

আমার এক কাদিয়ানি বন্ধু আমাকে বলেছে, কোরআনে আছে ঈসা আঃ এসেছিলেন বনী ঈসরাইলের ‘মেষ’ উদ্ধারের জন্য। তাই তিনি শরীয়তি নবী নয়। তিনি শরীয়ত বিহীন নবী।

কিন্তু আমি আমার সেই বন্ধুটিকে বলতে চাই, কোরানের কোথায় আছে এই বাণী?? কোরআনে ঈসা আঃ সম্পর্কিত মোট ১৫ টি সূরায় ৯৮ আয়াতে বর্ণিত আছে। এসব আয়াত খোঁজার পরও ‘মেষ উদ্ধার’ সংক্রান্ত আয়াতটি কোথাও পাইনি। তবে এটি পেয়েছি, মির্জা কাদিয়ানি রচিত ‘মসীহ হিন্দুস্থান মে’ এর ১৯ নং পৃষ্ঠায়। আমার বন্ধুটি হয়তো মির্জা সাহেবের প্রতি ‘অতিরিক্ত বিশ্বাস’ থাকায় এটি কোরআনের আয়াত বলে ফেলেছে, কিন্তু ইমাম মাহাদী এবং সকল রাসুলের চাইতে শ্রেষ্ঠ নবী দাবীদার মির্জা গোলাম কোরানের কোথায় পেয়েছে ঈসা আঃ ইসরাঈলের মেষ চরাতে এসেছেন??

আগেই বলেছি ইসলাম ধর্মে ‘উম্মতি নবী’ বলে কোন টার্ম নেই। কিন্তু কাদিয়ানিরা বলে হাদীসে আছে, একজন উম্মতি নবী আসবেন!! কিন্তু কোন হাদীসে??

কাদিয়ানিদের রচিত ‘উম্মতি নবী’ (কাদিয়ানি দের ‘আহমদিয়া বাংলা’ ওয়েভসাইটে এটি পাওয়া যাবে) গ্রন্থের ১৪ পৃষ্টায় বলা আছে, মোহাম্মদ সাঃ বলেছেন, “ইব্রাহিম বেঁছে থাকলে সত্য নবী হতো”

কিন্তু দূর্ভাগ্য, ইমাম আহমাদ বলেছে এই হাদীস দূর্বল এবং নাসায়ী বলেছেন, এটা বর্জিত। এর সনদ সহীহ নয়। আসলে, কাদিয়ানিরা মোহাম্মদ সাঃ ‘শেষ নবী’ নয়, একথা প্রমানের জন্য বুখারী, মুসলিম এর হাদীস পাশ কাটিয়ে উদ্ভট সব গ্রন্থ থেকে হাদীস বলে!! এদের উদ্দেশ্য কি এখনো পরিষ্কার নয়??

আর তারা নবীদের ক্যাটাগরি করেছে, যেমনঃ শরীয়তি নবী, শরীয়তবিহীন নবী, উম্মতি নবী ইত্যাদি। এবং তাদের মতে ঈসা আঃ শরীয়ত বিহীন নবী। কত বোকা এরা!!

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “(ঈসা) বলল নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। আমাকে তিনি কিতাব প্রদান করেছেন, এবং আমাকে নবী করেছেন”। ঈসা আঃ কে আল্লাহ কিতাব দিয়েছেন এরপরো কাদিয়ানিরা কীভাবে বলে ঈসা আঃ শরীয়তী নবী নয়! অথচ, “(মসীহ ইবনে মরিয়ম আরও বলবে), তাওরাতের যে বাণী আমার কাছে রয়েছে আমি তার সত্যয়নকারি এবং (তাছাড়া) তোমাদের ওপর হারাম করে রাখা হয়েছে এমন কতিপয় জিনিস আমি তোমাদের জন্য হালাল করে দেবো (সূরা আল ইমরান-৫০)।

ঈসা আঃ কে শুধু কিতাব দেয়া হয়নি বরং তিনি অনেক কিছুই হালাল করেছেন যা তাওরাতে হারাম ছিল। এখন আমি কাদিয়ানিদের বলব, শরীয়তি নবী হওয়ার শর্ত কি কি?? কাদিয়ানিরা বলে ঈসা আঃ মূসা আঃ এর উম্মত ছিলেন। তারা কত বোকা!! এইভাবে বললে, মূসা আঃ ও ইউসুফ আঃ এর উম্মত ছিলেন। বনী ইসরাঈলে হাজার হাজার নবী রাসূল এসেছেন। যেমনঃ হযরত ইসহাক আঃ-হযরত ইয়াকুব আঃ-হযরত ইউসুফ আঃ-হযরত মূসা আঃ ইত্যাদি। আর এভাবে বললে, কেউই শরীয়তি নবী নয়, এমনকি মোহাম্মদ সাঃ ও!! কারণ তিনি হলেন হযরত ইব্রাহিম আঃ এর পুত্র হযরত ইসমাইল আঃ এর উম্মত বা বংশধর। আর সব নবীই আদম আঃ এর বংশধর।

মূল কাহিনী হলো, এরা ঈসা আঃ কে শরীয়ত বিহীন নবী প্রমান করতে চায়, কারণ মির্জা গোলাম আহমেদ ইমাম মাহাদী হওয়ার পাশাপাশি ঈসা আঃ হওয়ারও দাবী করেছে। যাতে করে ঈসা আঃ এর সাথে মির্জা গোলামের একটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়!

কাদিয়ানিরা বিশ্বাস করে নবীদের মধ্যে পার্থক্য করতে কিন্তু আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি......

“আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি ঈমান এনেছি আমাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর, ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক ও তাঁদের অন্যান্য বংশধরদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপরও (আমরা ঈমান এনেছি), আমরা আরো ঈমান এনেছি মূসা, ঈসা এবং অন্য নবীদের তাঁদের মালিকের পক্ষে থেকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তার ওপরও, (আল্লাহর) এ নবীদের কারো মাঝেই আমরা কোন ধরণের পার্থক্য করিনা, মূলত আমরা সবাই হচ্ছি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম)” (সূরা আল ইমরান-৮৪)

এছাড়া ‘মির্জা কাদিয়ানি’ তার বিভিন্ন গ্রন্থে ঈসা আঃ কে চুড়ান্তভাবে অপমান করেছেন, এমনকি ঈসা আঃ মদ খায়, নারী সঙ্গে দোষী ছিল বলেও দাবী করেছে। ঈসা আঃ কে মির্জা যেসব ‘গালি’ দিয়েছে, তা রেফারেন্স সহকারে পরে ইনশাআল্লাহ একটা পোস্ট দিব।

আরেকটি মিথ্যাচার-  জনৈক কাদিয়ানি রচিত, “উম্মতি নবী” (এই বইটি ‘আহমদিয়া বাংলা’ ওয়েভসাইটে এখনও আছে) বইয়ের ৩ পৃষ্টায় বলা হয়েছে, সূরা আহযাব এর ৪০ নং আয়াত এর ‘খাতিমুন্নাবিয়্যিন’ এর অর্থ যে ‘শেষ নবী’ এটা নাকি মির্জা সাহেবের আগমনের পরে মুসলিমরা ‘ইজমা’ দ্বারা করেছে ।

অথচ এটা সাহাবীগণের ইজমা, মির্জার জন্মের ১২০০ বছর আগের। এমনকি, সাহাবীগণ ‘মুসাইলামা’ নামে ভন্ড নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল আবু বকর রাঃ এর খেলাফতযুগে। আমি আমার ১ম পোস্টে আরো অনেকের কথা উল্লেখ করেছি। সত্য হল, মির্জাই ‘খাতিমুন্নাবিয়্যিন’ এর অর্থ করেছে ‘শ্রেষ্ঠ নবী’, এবং তা ১৯০০ সালে।

আর কি বুঝতে বাকী আছে এদের উদ্দেশ্য কি?? তাই সেইসব ভ্রান্ত পথিকদের আবারো বলি, কাদিয়ানি ব্রিটিশদের এজেন্ট, অন্য কিছু নয়। নিজেই চিন্তা করুন! মোহাম্মদ সাঃ এর সেই বানী, “আর কথা হচ্ছে এই যে আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী হবে। তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবি করবে অথচ আমার পরে আর কোন নবী নেই”। (সুনানে আবু দাঊদ, সূনানে তিরমিযী)

১৯১৮সালের ৭ই ডিসেম্বর কাদিয়ানী পত্রিকা "আল ফজল" এ তার প্রকাশিত ।

- ১৮৮৫ সালে নিজেকে তিনি মুজাদ্দেদ হিসাবে দাবী করে
- ১৮৯১ সালে নিজেকে মাহদী হিসাবে আবার দাবী করে
- এক-ই বছরে সে আবার দাবী করে প্রতিশ্রুত মসীহ বলে
১৯০১ সালে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নবী বলে দাবী করে বসে

এছাড়া আমি উপরেই উল্লেখ করেছি, কাদিয়ানি নিজেকে সকল নবী রাসূলের চাইতে উত্তম বলেও দাবী করেছে। আমি কাদিয়ানি ভাইদের বলব, আমাকে একটি হাদীস দেখান, যেখানে ইমাম মাহাদী নিজেকে নবী দাবী করবে?? কিংবা ঈসা (আঃ) দাবী করবে?? কিংবা এমন একটি হাদীস যেখানে ইমাম মাহাদীর কাছে ‘অহী’ আসবে বলা হয়েছে?? শুধু একটি সহীহ হাদীস দেখান??

মির্জা কাদিয়ানির মতো আরো কয়েকজন ‘দাবীকৃত মাহাদী’-

০১। মোহাম্মদ জৈনপুরী (১৪৪৩-১৫০৫)
০২। আহমেদ ইবনে আবি মাহাল্লি (১৫৫৯-১৬১৩)
০৩। মহামাথি প্রণাথ (১৬১৮-১৬৯৪)
০৪। বা’ব (১৮৪৪)
০৫। মোহাম্মদ আহমাদ (১৮৪৫-১৮৮৫)

এছাড়া যে কয়জন নবী দাবি করেছে-

১. তুলায়হা বিন খুওয়ালিদ,
২. মুসায়লামাতুল কাজ্জাব ,
৩. সাজাহ বিনতে আল হারিস

পর্ব-৩ ঈসা আঃ এর অবতরণ, ইমাম মাহাদী এবং কাদিয়ানির 'ভ্রান্ত মতবাদ' !

“আমাদের খোদাতেই আমাদের বেহেশত। কেননা আমি তাহাকে দর্শন করিয়াছি এবং সকল প্রকার সৌন্দর্য তাহার মধ্যে দেখিতে পাইয়াছি” (মির্জা কাদিয়ানি রচিত কিশতিয়ে নূহ-পৃষ্ঠা ৪৪, আহাম্মাদিয়া জামাতের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ আহমাদি পৃষ্ঠা-৫)

“তখন সে বলল- এ আমার রব! আমাকে আপনার দর্শন দিন, যেন আমি আপনাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন-তুমি আমাকে কিছুতেই দেখতে পাবেনা.........” (সূরা আল আ’রাফ ১৪৩)

উল্লেখ্য মূসা আঃ যখন আল্লাহকে দেখতে চাইলেন, তখন আল্লাহ এই উক্তি করলেন। কোরআনে আল্লাহ অন্যত্র বলেন,  “দৃষ্টি সমূহ তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারেনা.........” (সূরা আল আন’আম-১০৩)

আর বেহেশত হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টি, বেহেশত ‘আল্লাহ’ নয়। “নিসন্দেহে তোমার রব আল্লাহ, যিনি ছয়দিনে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন; তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন” (সূরা আরা’ফ-৫৪) ।

‘আহমাদিয়া বাংলা’ ওয়েভসাইট এ দেয়া আছে, আয়েশা রাঃ বলেছেন,

“বলো নিশ্চয়ই তিনি খাতিম্যুন নাবিয়্যিন, একথা বলনা যে তার পরে আর নবী নেই” (তাফসির দূররি মানসূর, তাকমিলাহ মাজমা উল বিহার)

কাদিয়ানি দের এই ওয়েভসাইটের প্রথম মিথ্যাচার দিয়ে শুরু করলাম.........

আয়েশা রাঃ এটা কোন হাদীস গ্রন্থে বলেছেন?????? তাফসির দুররি মানসুর কিংবা তাকমিলাহ মাজমা উল বিহার এগুলো কিসের গ্রন্থ?? মুসলিম, বুখারীতে ‘শেষ নবী’ সংক্রান্ত হাদীস থাকতে এগুলোর উদাহরণ কেন??

(আহমেদিয়া বাংলা ওয়েভসাইট, প্রতিশ্রুত আহমদির ব্যখ্যা)


আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “(আর স্মরণ কর) যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলল, হে বনী ঈসরাইলের লোকেরা, আমি তোমাদের কাছে পাঠানো আল্লাহর এক রাসূল, আমার আগের তাওরাত কিতাবে যা কিছু আছে আমি তার সত্যতার স্বীকার করি এবং তোমাদের জন্য আমি হচ্ছি একজন সুসংবাদ দাতা, (তার একটি সুসংবাদ হচ্ছে), আমার পর একজন রাসূল আসবে, তার নাম আহমদ, অতপর (আজ) যখন সে (আহমদ সত্যি সত্যিই) স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তাদের কাছে হাজির হল, তখন তারা বললো এ হচ্ছে এক সুস্পষ্ট যাদু”।

এখানে, ঈসা আঃ তার জাতিকে ‘আহমাদ’ এর সুসংবাদ দিচ্ছেন। এই আহমাদ হচ্ছে মুহাম্মদ সাঃ যিনি একজন রাসূল। আয়াতের শেষ অংশেই বলা আছে, “অতপর (আজ) যখন সে (আহমদ সত্যি সত্যিই) স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তাদের কাছে হাজির হল, তখন তারা বললো এ হচ্ছে এক সুস্পষ্ট যাদু”। এই আয়াত নিশ্চয়ই ১৯০০ সালে নাযিল হয়নি। এটি ১৪০০ বছর আগেই নাযিল হয়েছিল। অথচ কাদিয়ানিরা এই আয়াতকে ‘মির্জা গোলাম আহমদের’ ওপর চালিয়ে দিচ্ছে কী করে!!!

আহমদিয়া বাংলা ওয়েভসাইট অনুযায়ী কাদিয়ানি ই হচ্ছে মাহাদী এবং বলা হচ্ছে............

দারকুতনী হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হযরত ইমাম মাহ্‌দী  তাঁর দাবীর সত্যতার নিদর্শন রূপে চন্দ্র ও সূর্যের বিশেষ গ্রহণ ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে পূর্ব গোলার্ধে এবং ১৮৯৫ খৃস্টাব্দে পশ্চিম গোলার্ধে সংঘটিত হয়ে বিশ্বাবাসীকে তাঁর আগমন বার্তা জানিয়ে দিয়েছে। 

কাদিয়ানিদের একটা কৌশল হচ্ছে, হাদীসের সনদ সহকারে না বলা। এই হাদীসটি সম্পূর্ণরুপে জাল, এর সনদে মোহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত উল্লেখ নেই, আছে মোহাম্মদ বিন আলী পর্যন্ত এবং এই সনদের দুই জন রাবী আমর বিন শামের এবং জাবির অবিশ্বাসযোগ্য।

একটা কথা উল্লেখ্যঃ কোরআনে ইমাম মাহাদী সংক্রান্ত কিছুই বলা হয়নি। “আহমদিয়া বাংলা” ওয়েভসাইটে তারা যেইসব আয়াতে ইমাম মাহাদী আগমণের নিদর্শক বলে উল্লেখ করেছে, তা যে ইমাম মাহাদী সংক্রান্ত নয়, তা আয়াত গুলো পড়লে যে কেউই বুঝতে পারবে, এ সংক্রান্ত পরবর্তীতে একটি পোস্ট দিব, ইনশাআল্লাহ। 

মির্জা গোলাম আহমদ কখনো নবী, কখনো ইমাম মাহাদী, কখনো ঈসা আঃ অথবা কখনো রাসূল আবার কখনো সকল নবী রাসূলের চাইতে উত্তম বলে দাবি করেছে। মির্জা গোলাম তার ‘দূররে ছামীন’ গ্রন্থে লিখেছে, “সমস্ত নবী রাসূলকে যা দেয়া হয়েছে তার সমস্তটাই আমাকে দেয়া হয়েছে” । এছাড়া কাদিয়ানি পত্রিকা ‘আল ফজল’ লিখেছে, “আমাদের বিশ্বাস যে গোলাম আহমাদের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য আল্লাহ এতো নিদর্শনাদি এবং প্রমাণাদি প্রেরণ করেছেন, যদি তা এক হাজার নবীর মধ্যে বন্টন করে দেয়া হতো তবে তাদের নব্যুয়াত প্রমাণিত হওয়ার জন্য এগুলো যথেষ্ট হবে...” (আল ফজল ১৬ ই অক্টোবর ১৯১৭)।

এইবার একটা মজার কথা শুনুন......

মির্জা গোলামের দাবী তার কাছে ইলহাম (আল্লাহর ওহী) নাযিল হয়েছে, আরবী, উর্দু এবং ইংরেজী ভাষায়...(বিঃদ্রঃ তার ভাষা ছিল হিন্দি/উর্দু) (কাদিয়ানীদের “আল ওয়াসিয়াত” ৯ পৃষ্ঠা, এই গ্রন্থটি আহমদিয়া বাংলা ওয়েভসাইটে এখনও আছে)

আর আল্লাহ বলেন, “আমি কোন রাসূল পাঠাইনি নিজ গোত্রীয় ভাষা ছাড়া। যেন সে তাদের কাছে বর্ণনা করতে পারে......” (সূরা ইব্রাহিম-৪)

তাই সেই সব ভ্রান্ত পথিকদের আবারও অনুরোধ, কাদিয়ানির প্রতি কোন ওহী নাযিল হয়নি, এটা তার মিথ্যা কথা। আর একজন মিথ্যুক অবশ্যই ‘ইমাম মাহদী’ হবেন না।
পৃথীবীর ইতিহাসে কোন নবী রাসূলকে আল্লাহ তার সজাতীর ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় ওহী নাযিল করার প্রমান নাই। আল্লাহ বিভিন্ন নবী ও রাসূলকে বিভিন্ন জাতীর কাছে প্রেরণ করেছিলেন তাদের কে নিজস্ব ভাষায় ওহী দিয়ে, যেমনঃ মূসা আঃ এর তাওরাও ছিল ‘হিব্রু’ ভাষায় কিংবা ঈসা আঃ এর বাইবেল/ইঞ্জিল ছিল ‘আ্যরামিক ভাষায়/হিব্রু’ যা তাঁদের নিজস্ব ভাষা, যাতে তারা তাঁদের স্বজাতির কাছে ভালোভাবে বুঝাতে পারে কি নাযিল করা হয়েছে, এমনকি মোহাম্মদ সাঃ পুরো মানব ও জীন জাতীর জন্য নবী হয়ে আসা সত্ত্বেও তাঁর কাছে প্রেরিত কোরআন ছিল আরবী ভাষায়।

আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি একে নাযিল করেছি কোরআন রুপে আরবীতে যেন তোমরা বুঝ” (সূরা ইউসূফ-২) 

যদিও মোহাম্মদ সাঃ এসেছিলেন সকল জাতীর জন্য......

“আমি তো আপনাকে সব মানুষের সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করেছি, তবে অনেকেই তা অবগত নয়” (সূরা সাবা-২৮)

“বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর প্রেরিত রাসূল...” (সূরা আল আ’রাফ- ১৫৮)

আসুন, মির্জা গোলামের প্রতি একটি ইংরেজী ওহী শুনি......তার নিজের ভাষায়.........

“আমার প্রতি ইংরেজী ভাষায় কয়েকবার ইলহাম হয়েছে, শেষবার এ ইলহাম হয়, I can do what I will অর্থাৎ আমি যা করতে চাই তাই করতে পারি” (গোলাম কাদিয়ানির রচিত ‘বারাহীনে আহমদিয়া’ গ্রন্থ থেকে)

আমরা বলিঃ হ্যাঁ তোমার প্রতি ইংরেজী, ফার্সি ভাষায়-ই ইলহাম হবে, আর এই ইলহাম আল্লাহ থেকে নয়, এই ওহী নাযিল হয়েছে ব্রিটিশদের কাছ থেকে।

এই ‘গাঁজা সেবনকারীর’ নিজেই বলেছে-
কথার উচ্চারণ ও বাক্য ভঙ্গী দেখে বুঝতে পারলাম, একজন ইংরেজ আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলছে” (বারহীনে আহমদিয়া)

‘গাঁজা সেবনকারী’ বলায় কাদিয়ানি ভাইয়েরা রাগ করবেন না। যিনি গাঁজা সেবন করেন তাকেই গাঁজা সেবনকারি বলা যায়......

গোলামের পুত্র তার ২য় খলীফা বলেছে, “আমার পিতা আল্লাহর নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে তিরিয়াকে এলাহি নামক একটি ঔষুধ তৈরি করেছিলেন, যার অর্ধেক অংশ ছিল আফিম” (আল ফজল পত্রিকায় প্রকাশিত, ১৯ জুলাই, ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ)

এছাড়া গোলাম আহমেদ তার এক মুরিদের কাছে লাহোরে চিঠি পাঠায়, “বলুমর নামক ব্যক্তির কাছ থেকে ওয়াইন কিনে যেন তার কাছে পাঠায়, মুরিদ যখন বলুমুরকে বলল, ওয়াইন কি?? বলুমুর উত্তর দিল, ইহা এক প্রকার শক্তিশালী নেশাদার মদ যা সিল করা বোতলে ইংল্যান্ড থেকে পাঠানো হয়” (কাদিয়ানি ডাক্তার মোহাম্মদ হুসাইনের ‘মাকতুবুল ইমাম বিইসমিল গোলাম’ ৫ পৃষ্ঠা)

 “মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণয়ের তীর এসব নোংরা ও অপবিত্র, শয়তানের কাজ ব্যতীত আর কিছুই নয়; সুতরাং তোমরা এসব বর্জন কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হবে” (সূরা-আল মা’য়িদা-৯০)

মির্জা কাদিয়ানি তার ‘নূরুল কুরআন’ গ্রন্থে  এমন কিছু আয়াত ‘কোরআন’ এর নামে চালিয়ে দিয়েছে যা কোরআনের কোথাও নাই। এই বিষয়ে পরে পোস্ট দিব ইনশা আল্লাহ।
এছাড়া মির্জা গোলামের মিথ্যাচার দেখুন। সে তার ‘এজালাতুল আওহাম’ গ্রন্থে লিখেছে, “রাসূলকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, কিয়ামত কখন হবে? উত্তরে তিনি বললেন, সমগ্র মানবজাতীর উপর আজকের দিন হতে একশত বৎসরের মধ্যে কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে”

এই কথা কোন হাদীসে আছে?? এটা একটা ‘ডাহা মিথ্যা’ কথা এবং মোহাম্মদ সাঃ এর নামে মিথ্যাচার। আর মোহাম্মদ সাঃ বলেছেন, “যে কেউই আমার নামে মিথ্যাচার করবে তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম” (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সূনানে আবু দাঊদ)

এছাড়া মির্জা গোলাম আরো বলেছে, “সহীহ হাদীসে আছে যে, মসীহে মাওউদ শতাব্দীর প্রান্তে অবতীর্ণ হবেন। এবং তিনি চৌদ্দ শতাব্দীর ইমাম হবেন” (মির্জা গোলাম কাদিয়ানী রচিত ‘নুসরতুল হক’ গ্রন্থ হতে)

এছাড়া মির্জা গোলাম তার ‘শাহাদাতুল কোরআন’ গ্রন্থে লিখেছে যে, “বুখারীতে আছে, আকাশ থেকে একটি আওয়াজ মির্জা গোলামের জন্য ঘোষণা করবে যে ইনি-ই আল্লাহর খলীফা মাহাদী”। কিন্তু বুখারীতে এই রকম কোন হাদীসই পাওয়া যায়না।  

এছাড়া সে তার ‘আরবাঈন’ গ্রন্থে বলেছে, “পূর্ববর্তী সকল নবীর ওহী একবাক্যে বলে যে মসীহে মাওউদ চৌদ্দ শতাব্দীতে জন্ম গ্রহণ করবেন এবং তিনি পাঞ্জাবেই জন্মগ্রহণ করবেন”।

এই ‘মিথ্যুক’ এটি কোথায় পেল?? কোন সহীহ হাদীসে এই সব কথা আছে?? এই ভাবেই তার মিথ্যাচার শুরু হয়...

‘আহমদিয়া বাংলা’ ওয়েভসাইট ও মির্জা গোলামের রচিত ‘বারহীনে আহমদিয়া’ তে আছে......

আল্লাহ মির্জা কাদিয়ানিকে বললেন, “আমি তোমাকে এক বিরাট জা’মাত দান করব”

আমরা বলিঃ হ্যাঁ, তাকে জা’মাত দেয়া হয়েছে, তবে এই প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দেন নি, দিয়েছে ব্রিটিশ রাজের রানী ভিক্টোরিয়া, আর জা’মাত ও দিয়েছে তারা ব্রিটিশদের দালালী করেছে তখন আর এখন করছে ইসলাম বিরোধীদের দালালী।

এইভাবেই সে মিথ্যাচার করছে!! অথচ মোহাম্মদ সাঃ বলেছেন, “তোমাদের পূর্বে অতিবাহিত বনী ঈসরাইলের লোকের মধ্যে এমন লোক ছিল যাদের সাথে কথা বলা হয়েছে (আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলেছেন) অথচ তারা নবী ছিলেন না, আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেও হয় তাহলে সে হবে উমর” (সহীহ মুসলিম)

হাদীসটি স্পষ্ট। যদি কারো সাথে আল্লাহ কথা বলতেন তাহলো তিনি হতেন উমার (রাঃ)। আর ‘ভন্ড’ মির্জা কাদিয়ানি বলছে তার প্রতি ইলহাম (ওহী নাযিল) হয়। আসুন তার আরো কিছু ইলহামের নমুনা দেখি। সে তার গ্রন্থ ‘আল বুশরা’ তে বলেছে, “আমার কাছে ইলহাম হয় ’১১-ইনশাআল্লাহ’। এখন ’১১-ইনশাআল্লাহ’ এর অর্থ কি??

সে আরো বলেছে, তার কাছে ইলহাম আছে, “উপযুক্ত ব্যক্তি”, “চৌধুরী রুস্তম আলী”, “ফজলুর রহমান দরজা খুলছে” ইত্যাদি। সব গুলোই তার ‘আল বুশরা’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া, ১ম সংস্করণ। যাই হোক, এখন আল্লাহ কি এমন কোন ‘ওহী’ নাযিল করেন, যার কোন অর্থ নেই?? আল্লাহ কি ‘অনর্থক’ কাজ করেন??

১৯০৭ সালে মির্জা গোলাম শেখ ছানাউল্লাহ অমৃতসারীর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। কিন্তু বিতর্কে পরাজয়ের ফলে সে একটি ঘোষনা দেয়, যার সারমর্ম এরুপ, “যদি শেখ ছানাউল্লাহ সত্য হয় মানে মির্জা গোলাম ভন্ড হয় তবে মির্জা গোলাম শেখ ছানাউল্লাহ’র জীবদ্দশায় ডায়রিয়া কিংবা কলেরা হয়ে মারা যাবে, আর যদি মির্জা গোলাম সত্য হয় তবে  শেখ ছানাউল্লাহ অমৃতসারীর এই অবস্থা হবে”। (প্রচারপত্রটি ১৫ ই এপ্রিল প্রচারিত হয়)

কিন্তু দূর্ভাগ্য জনক হল, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মৃত্যুর প্রায় ৪০ বছর পরেও শেখ ছানাউল্লাহ অমৃতসারী জীবিত ছিল। আর মির্জার মৃত্যু, তার ছেলে বশীর আহমেদ ‘সীরাতে মাহদী’ গ্রন্থে লিখেছে,“আমার মা আমাকে বলেছে জনাবের খাওয়ার পর পরই পায়খানায় যাওয়ার প্রয়োজন হল, এরপর একটু নিদ্রা গেলেন আবার পায়খানায় যাওয়ার প্রয়োজন হল, অতপর আমাকে অবহিত না করেই আরো দু’একবার গেলেন। তারপর আমাকে জাগালেন তখন আমি দেখতে পেলাম যে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন...একটু পরেই আবার পায়খানায় যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেন কিন্তু এবার পায়খানায় যেতে না পেরে খাটের নিকটেই প্রয়োজন সেরে নিলেন.........”

“আমাকে তিনি এই বলে সম্বোধন করলেন, আমি কলেরায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। অতঃপর তিনি আর কোন কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি এবং পরদিন সকাল ১০ টায় মারা যান” (গোলাম কাদিয়ানির শ্বশুরের ‘হায়াতে নাসির’ গ্রন্থ হতে)